পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘা, মন্দারমণি-সহ উপকূলবর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর সামনে এসেছে। ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি জোরদার করেছে। পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের সতর্ক করতে মাইকিং, বিপর্যয় মোকাবিলার দল প্রস্তুত রাখা এবং আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি রাখার কথাও বলা হয়েছে।
তবে এই প্রতিবেদনটি ২৮ অক্টোবরের খবরের ভিত্তিতে তৈরি। বর্তমানে দীঘায় কী সতর্কতা কার্যকর রয়েছে, তা জানতে ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইট এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের ওয়েবসাইট দেখে নেওয়া জরুরি।
Cyclone Arnab Update: দীঘা ও মন্দারমণিতে পর্যটকদের সতর্কতা
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীঘা, মন্দারমণি, তাজপুর এবং সমুদ্রের কাছাকাছি বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছিল। সমুদ্রে নামা এবং সমুদ্রস্নান এড়িয়ে চলার জন্য পর্যটকদের অনুরোধ করা হয়েছিল।
মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার বর্তমান সময়সীমা জানতে প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশ অনুসরণ করা উচিত।
পূর্ব মেদিনীপুরে দুর্যোগ মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী পাঁচটি ব্লককে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল। ব্লকগুলি হল:
- রামনগর-১
- রামনগর-২
- কাঁথি-১
- দেশপ্রাণ
- খেজুরি-২
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই এলাকাগুলিতে ৪৩টি মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টার এবং পাঁচটি মাল্টিপারপাস রেসকিউ সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। প্রয়োজন হলে উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।
স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা
সম্ভাব্য দুর্যোগে মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য স্কুল ভবনগুলিকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের প্রস্তুত রাখা এবং ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঝড়ের কারণে গাছ ভেঙে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত তা সরানোর জন্য ট্রি-কাটিং দল প্রস্তুত রাখার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সোমবার দুপুরের পর কাঁথি, হলদিয়া, তমলুক-সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। এরপর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া শুরু হয়।
ময়নার চিরঞ্জীবপুর এলাকায় ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং একটি ট্রান্সফর্মার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার বর্তমান অবস্থা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
Cyclone Arnab Update: কন্ট্রোল রুমের নম্বর কোথায় পাবেন?
২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের জন্য ৯০৭৩৯৩৯৮০৪ এবং ০৩২২৮-২৬২৭২৮ নম্বর দুটি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই নম্বরগুলির বর্তমান কার্যকারিতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের সরকারি ওয়েবসাইটে জেলা কন্ট্রোল রুমের নম্বর হিসেবে ০৩২২৮-২৬৯৭৯৭, ০৩২২৮-২৬৬২৩৪ এবং ৯১৪৭৮৮৮৭০৪ দেওয়া রয়েছে। জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের সরকারি পৃষ্ঠায় ৭৩৬৪০৪৫১৪০ হেল্পলাইন নম্বরও উল্লেখ রয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে ফোন করার আগে সরকারি পৃষ্ঠায় নম্বরগুলি মিলিয়ে নিন:
- পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ – যোগাযোগের তথ্য
- পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা
- ভারতের আবহাওয়া দপ্তর
সমুদ্র উপকূলে গেলে কী কী সতর্কতা মানবেন?
- প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলে সমুদ্রে নামবেন না এবং সমুদ্রস্নান এড়িয়ে চলুন।
- মৎস্যজীবীরা আবহাওয়া দপ্তর ও প্রশাসনের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন না।
- বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, সমুদ্রতট এবং উঁচু গাছের কাছ থেকে দূরে থাকুন।
- ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকলে তার কাছে যাবেন না বা স্পর্শ করবেন না।
- প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
শেষ কথা
Cyclone Arnab Update ঘিরে দীঘা ও পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে একাধিক প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পুরনো খবরের ভিত্তিতে বর্তমান সতর্কতা, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা বা কন্ট্রোল রুমের নম্বর সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। সর্বশেষ তথ্যের জন্য আবহাওয়া দপ্তর, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করুন।



Leave a Reply