পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যপালের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। বাংলার যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে ‘ইতিবাচক হওয়ার সংকল্প করুন’ এবং ‘পরিবর্তনের অংশ হওয়ার সংকল্প করুন’— এমন আহ্বান জানান রাজ্যপাল আর এন রবি। তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
এই মন্তব্যের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নাম না করে রাজ্যপালকে ‘লাটসাহেব’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, বাংলার সবচেয়ে বড় বাড়িতে যিনি থাকেন, তিনি আজ একটি স্টেটমেন্ট দিয়েছেন, তবে তিনি কারও নাম নিতে চান না।
এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকেও রাজ্যে পরিবর্তনের দাবি জোরালো করা হয়েছে। কয়েক দিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিজেপির সংকল্প পত্র প্রকাশ করেছেন। তার পরপরই রাজ্যপালের মুখে ‘পরিবর্তন’ ও ‘সংকল্প’ শব্দ উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা ও শিল্পের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ এখনও জাতীয় গড়ের নিচে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বারবার নেতিবাচক চিন্তা করার ফলে রাজ্য থেকে শিল্প সরে যাচ্ছে। তাই বিশেষ করে যুবসমাজকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে পরিবর্তনের অংশ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, এখন রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে এবং প্রতিদিন হিংসার ঘটনা ঘটছে। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রাক্তন আইএএস অফিসার সি ভি আনন্দ বোসকে সরিয়ে নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে। নতুন রাজ্যপালের নাম ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। সেই সময়ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ভোটের আগে হঠাৎ রাজ্যপাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।
সাম্প্রতিক এই মন্তব্যের জেরে আবারও রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন সামনে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

