ইডি-র হাতে গ্রেফতার হলেও অসুস্থতার কারণে রবিবার আদালতে পেশ করা গেল না বেহালার ব্যবসায়ী তথা সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় এস কামদারকে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ধৃতকে আগামীকালের মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে, নয়তো মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
রবিবার গ্রেফতারের পর ইডি আধিকারিকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য জয় এস কামদারকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে ভর্তি করা হয় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। বর্তমানে হাসপাতালেই তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং ইডি-র নজরদারিতেই তিনি থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
আদালতের কী নির্দেশ
আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে,
- আগামীকালের মধ্যে ধৃতকে আদালতে পেশ করতে হবে,
- যদি শারীরিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব না হয়, তাহলে মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
এছাড়াও, চিকিৎসা চলাকালীন সময়েও ইডি-র আধিকারিকরা হাসপাতালে নজরদারিতে থাকবেন।
ইডি-র আইনজীবীর দাবি, ধৃতের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ মিলেছে। আরও কয়েকজন অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র রয়েছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও এই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে গ্রেফতার করা হয় জয় এস কামদারকে
রবিবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বেহালায় জয় এস কামদারের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। ভোরবেলা অভিযান শুরু হলেও প্রথমে প্রায় ৪০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করতে হয় আধিকারিকদের। বারবার ডাকাডাকির পর সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ গেট খোলা হয়।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে তাঁকে দু’বার তলব করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। পরে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকেলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
কী অভিযোগ রয়েছে এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, জয় এস কামদারের বিরুদ্ধে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। গত ১ এপ্রিল ‘সোনা পাপ্পু’-র বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় যে তথ্য পাওয়া যায়, তার ভিত্তিতেই জয় এস কামদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে আগে থেকেই
- জোর করে জমি দখল
- বেআইনি টাকা তোলা
- তোলাবাজি
- কালো টাকা সাদা করার
অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, জয় এস কামদারের সংস্থার মাধ্যমে এই কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। পাশাপাশি জেরার সময় অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আপাতত কী পরিস্থিতি
বর্তমানে জয় এস কামদার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ইডি-র নজরদারিতে আছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামীকাল তাঁর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যা এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


