ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় বড়সড় তথ্য সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সংস্থার দাবি, তদন্তে নতুন করে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফলে এই মামলায় মোট বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৮২ কোটি টাকা।
ED সূত্রে জানা গেছে, এই কয়লা পাচার কাণ্ডে চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খান-সহ মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, বেআইনি কয়লা পাচারের জন্য একটি সুসংগঠিত হাওয়ালা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হত। কালো টাকা লেনদেন গোপন রাখতে বহুস্তরীয় ও জটিল পদ্ধতিতে অর্থ স্থানান্তর করা হত বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। এই দুর্নীতিতে কারা মূল সুবিধাভোগী এবং কত টাকার আর্থিক তছরুপ হয়েছে, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ED।
প্রেস বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, এই বেআইনি কয়লা পাচার চক্র পরিচালনা করত অনুপ মাজি ওরফে ‘লালা’-র সিন্ডিকেট। পাচারের জন্য ‘লালা প্যাড’ নামে একটি ভুয়ো বিল ব্যবহার করা হত, যা বাস্তবে অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের নামে তৈরি করা হতো।
এছাড়াও তদন্তে জানা গেছে, পাচারকারী ট্রাক শনাক্ত করতে বিশেষ কৌশল নেওয়া হত। বেআইনি চালানের সঙ্গে ১০ বা ২০ টাকার একটি নোট দেওয়া হত এবং সেই নোট নম্বর প্লেটের পাশে ধরে ট্রাকের ছবি তোলা হত। পরে সেই ছবি সংশ্লিষ্ট রুটের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে পাঠানো হত বলে অভিযোগ। ফলে কোন গাড়িতে কয়লা পাচার হচ্ছে, তা আগেভাগেই জানা থাকত এবং অনেক ক্ষেত্রে সেই গাড়িকে আটকানো হত না বা আটকানো হলেও দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হত বলে ED দাবি করেছে।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, বেআইনি কয়লা পাচার ও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এই মামলার তদন্ত আগামী দিনেও জারি থাকবে।

